আমার ব্লগ পোস্টগুলো পড়ুন , আপনার উপকার হবে। আপনাকে ব্লগ পড়ার জন্য ধন্যবাদ । জীবনের সংগ্রামে জয়ী হন।

Tuesday, October 4, 2011


চড়ুই পাখির মতো!!
                 - আহমেদ বুলবুল  
রাত পোহালে শুনা যায় কিচিরমিচির ধ্বনি ,
তার পর অপেক্ষার পালা খাবারের তরে
কখন যে এসে যাও বাতায়ন পাশে
ঝাঁকে ঝাঁকে দাড়িয়ে ডাক যেন কাকে।

সে যে নয় আর কেউ, আমি সেই অধম
যখন কম্পিউটারে কাজ করি, নিচু করি মন।
তোমাদের ডাক আমার সম্বিত ফিরিয়ে দেয়,
ফিরিয়ে নেয় আমার মনের নিঃসঙ্গতা,

উঠে এসে দেখি তোমাদের কোন খাবার নেই,
মনে পড়ে ছোট বেলার সেই দুঃখময় সময়
দৌড়ে যাই তোমাদের জন্য চাল বা ভাত আনতে,
স্ত্রীর গুঞ্জন আমার মন কে থামাতে পারে না।

মনে পড়ে কত দিন রয়েছি অভুক্ত,
আজ হয়তো আমার আগের অভাব নেই,
কিন্তু ভাবি কক্ষন যে সে এসে পড়ে,
তার পর সইতে পারবো তো সে কষ্ট।

হয়তো এখন সে শক্তি নেই, নেই মনের সে জোর,
আজ যে আমি ক্লান্ত, আমার আর পা চলে না,
মাকে দেখতাম তিনি যেন আমাকে কি বলতেন,
তাঁর কথা আমার পক্ষে বোঝা হয় না।

তখন আমি ব্যস্ত, মার কথা শুনার সময় কোথায়?
এক সময় এক প্লেট ভাতের জন্য মাকে কত কষ্ট দিয়েছি,
মা বিরক্ত হয়ে ঝাড়ু পেটা করেছেন।
এতগুলো ছেলে তাঁর কেউ রোজগার করতে পারে না ,
আর আমি তো তখন মাত্র শিশু।
আমি আর কি বা করবো? এটাই স্বাভাবিক।

হাতি ঘোড়া যেখানে রসাতল,
সেখানে খুদ্র সেই শিশু আমার বা কি করার থাকবে!
ছোট কালে মাকে বকেছি কিনা জানিনা, তবে
বড় হওয়ার পর আমার মনে পড়েছে,  তাঁর দোষ নেই।
আজো সেরকম ভাবি আমি, কোন নিঃসঙ্গতা আমার
জীবন এ  কোন দাগ ফেলতে পারেনি পারবেনা
কারণ আমি নিঃসঙ্গতা কে ছোট কাল থেকে ভালো বাসতাম,
এ নিয়ে মাকে বকতে দেখেছি।
লাভ  নেই, যে স্বভাব আমার, তার কোন পরিবর্তন নাই।
ঠিক যেন আমার জানালার পাখিদের মত অবস্থা।
এক সময় পাখীগুলো এমন করে যেন সব কিছু বুঝে।
হয়তো তারা বুঝে তাই আমার জানালার পাশে তারা আসে।
মন চায় তাদের সাথে কথা বলি
আবার ভাবি মানুষ পাগল বলবে,
বলুক ; মানুষের বলাকে তো কোন দিন আমল দেই না
আর আজ, ভাবছি, ছি! ছি!
এই অবস্থা আমার,
মাকে বলেছি আপনি যেভাবেই থাকেন আপনাকে আমি মাফ করে দিলাম,
আপনার আমার কাছে মাপ চাওয়ার দরকার নাই,
মা বলেন,  জগতের বিধান তো মানতে হবে।
বললাম থাকেন জগতের বিধান নিয়ে,
আপনি তার সীমা ডিঙ্গাতে হয়তো পারবেন না ,
আর আমার না পেরে উপায় নাই।
কি লিখছি? কবিতা ? নাকি পাখির কথা।

মায়ের সংসারে আর অভাব নেই,
সেই আমার জন্য, অনেকে বলে।
কিন্তু আমার মনে হয় আগের মতই
অভাবে আছি, আছি আরও বড় বিপদে!

মা আজ  আর নেই, আমি আছি,
হয়তো আরও কয়েক বছর থাকব,
থেকেও বা কি করবো?
যেখানে কথা বলার স্বাধীনতা খর্বের পথে।

আর কিছু দিন পর তা দেখতে পাবো ।
যেখানে দেশের সরকার থাকে অন্য দেশে তাবেদারীতে
সেখানে নাগরিক, সেতো ছাইএর মতো
তার অবস্থা চড়ুই পাখির মতো।
কিচির মিচির করে বটে , কিন্তু কি যে বলে বোঝা দায়।
আমার এক সময় মনে হত এ দেশে মরতে পারলে  শান্তি পাবো।
কাল ক্রমে যা দশা।
মনে হয় যত তাড়াতাড়ি মরি ততই মঙ্গল।
কথায় বলে না, বোধ নাই দেশে পলায়ন সার।
আমার মাঝে মাঝে মনে হয় আমি সেই দেশে আছি।
কিন্তু দেশের কি দোষ ও তো নির্দোষ, দোষ তো
মানুষের, যারা অন্যের গ্রাস কেড়ে খায়।

আজ বড় মনে পড়ে নজরুল কে
আর শুনতে বিদ্রোহের গান ,
অনেকে নেতা হতে চায় ;কিন্তু তা হতে হলে
জেলে যেতে হয়, আর আজ তা কেউ চায় না।

শখ কিন্তু কমেনি, সেই আগের মতই আছে,
কিন্তু আচরণ আগের মতো নেই।
তাই আর কিছু বলতে চাই না ।
একই কথা বোধ নাই দেশে পলায়ন সার।
অবস্থা চড়ুই পাখির মতো, বুঝে  কিন্তু বুঝাতে পারে না।
আমার অবস্থাও সেই রকম।
       ------০---- তারিখঃ ৪/১০/২০১১ খ্রীঃ 

No comments:

Post a Comment